প্রত্যেক ফরজ নামাজের আগে, নামাজের ভিতরে এবং নামাজের পরের দোয়া সমূহ
প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ওইগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। (সহীহ মুসলিম, ১২৩৭)
প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ওইগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। (সহীহ মুসলিম, ১২৩৭)
রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে পরতেন ।
(১) আসতাগফিরুল্লাহ্ ৩ বার
أستغفر الله
অর্থ হলো আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(মুসলিম, ১২২২)
(২) আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম
المعنى: يا الله! أنت مسالم ومنك يأتي السلام. أنت خير ولديك الشرف والهيبة.
অর্থ : অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।।
– (মুসলিম, ১২২১)
(৩) সুবহা-নাল্লা-হ (অর্থ: আল্লাহ পবিত্র ) (৩৩ বার)।
আলহাদুলিল্লাহ্ (অর্থ: সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর )(৩৩ বার)।
আল্লাহু-আকবার (অর্থ: আল্লাহ্ মহান ) (৩৩ বার)।
(লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা-লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর) (১ বার)। এগুলো পাঠে গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেয়া হয়।) (মুসলিম, ১২৪০)
(৪) আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারার আয়াত-২৫৫) ১ বার পড়া। ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো দূরত্ব থাকেনা। (নাসাঈ)
আয়াতুল কুরসীর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত-
শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াত: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। (মুসতাদরাকে হাকিম)
اللّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيم
উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
(৫) আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার’ ৭ বার ফজর ও মাগরিবের পর।
ﺃﻟﻠﻬﻢ ﺃﺟﺮﻧﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ
অর্থ: হে আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন
কেউ দিন বা সে রাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।
(৬) সূরা ইখলাস, ৩ বার
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)
সুরার নাম ‘ইখলাস’। যার অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।
ফালাক্ব ৩ বার
১) কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
২) মিন শাররি মা-খালাক।
৩) ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
৪) ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
৫) ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
অর্থ : বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
সূরা নাস
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
মালিকিন্না-ছ,
ইলা-হিন্না-ছ।
মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ
مَلِكِ ٱلنَّاسِ
إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ
مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ
ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ
مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ৩ বার করে,
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,
মানুষের অধিপতির,
মানুষের মা’বুদের
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
ফজর ও মাগরিবের পর।
রাসূল (সা.) বলেন, সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পাঠ করলে তোমার আর কিছুরই দরকার হবে না।
(৭) দরুদ শরীফ ১০ বার, ফজর ও মাগরিবের পর। কেয়ামতের দিন রাসূল (সা.) এর শাফা'আত লাভ করবে।
দরুদে ইব্রাহিমের আরবি, অর্থ, উচ্চারণ-
আরবি: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌاللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।
(৮) ﺭﺿﻴﺖ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺭﺑﺎ ﻭﺑﺎﻹﺳﻼﻡ ﺩﻳﻨﺎ ﻭﺑﻤﺤﻤﺪ ﻧﺒﻴﺎ
(‘রাদ্বীতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা’) ৩ বার, ফজর ও মাগরিবের পর। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ উক্ত ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করবেন।
অর্থ: আমি আল্লাহকে আমাদের পালনকর্তা হিসেবে, ইসলামকে আমাদের ধর্ম হিসেবে এবং মুহাম্মদকে আমাদের নবী হিসেবে নিয়ে সন্তুষ্ট ।
(৯) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার বলে,
«سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ».(সুব্হানাল্লা-হি ওয়াবিহামদিহী) তার পাপসমূহ মুছে ফেলা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে। (বুখারী ৭/১৬৮, নং ৬৪০৫; মুসলিম ৪/২০৭১, নং ২৬৯১)
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সারা জাহানের সকল মুসলিম নর-নারীকে উক্ত আমলগুলো যথাযথ ভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।
আজান ও ইক্বামাতে উত্তর দেয়ার নিয়মঃ
আজান শব্দের অর্থ হচ্ছে ডাকা, আহবান করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় জামাআতের সহিত নামাজ আদায় করার লক্ষ্যে মানুষকে মসজিদে একত্রিত করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে ডাক দেয়া বা ঘোষণা করাকেই আজান বলা হয়।
আর ইক্বামাত শব্দের অর্থ হচ্ছে দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ জামাআতে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে নামাজের পূর্ব মূহুর্তে আজানের শব্দ বা বাক্য দ্বারা নামাজ আরম্ভ হওয়ার ঘোষণাকেই ইক্বামাত বলা হয়। যাতে আজানের চেয়ে একটি বাক্য অতিরিক্ত রয়েছে। তা হলো- قد قامت الصَّلوة (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ)। মৌখিকভাবে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে শ্রবণকারীদের জন্য আজানের উত্তর দেয়া সুন্নাত। আজান ও ইক্বামাতের উত্তর সমূহ তুলে ধরা হলো-
মুয়াজ্জিন- اَللهُ اَكْبَرْ (আল্লাহু আকবার) ৪ বার
শ্রবণকারী- اَللهُ اَكْبَرْ (আল্লাহু আকবার) ৪ বার
মুয়াজ্জিন- اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا الله (আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا الله (আশহাদু আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ২ বার
মুয়াজ্জিন- اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) ২ বার
মুয়াজ্জিন- حَيَّ عَلَي الصَّلوةِ (হাইয়্যা আলাস সালাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ) ২ বার
মুয়াজ্জিন- حَيَّ عَلَي الفَلَاحِ (হাইয়্যা আলাল ফালাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ) ২ বার
[ফজরের আজানের সময়
মুয়াজ্জিন- اَلصّلَوةُ خَيْرٌمِّنَ النَّوْمِ (আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম) ২ বার
শ্রবণকারী- صَدَقْتَ وَ بَرَرْتَ (সাদাক্বতা ও বারারতা) ২ বার
ইক্বামাতের সময়
মুয়াজ্জিন- قَدْ قَامَتِ الصَّلَوة (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ) ২ বার
শ্রবণকারী- اَقَامَهَا اللهُ وَاَدَّمَهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَتُ وَ الْاَرْضُ (আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদ্দামাহা মা দামাতিস সামাওয়াতু ওয়াল আরদু) ২ বার]
মুয়াজ্জিন- اَللهُ اَكْبَرْ আল্লাহু আকবার (২ বার)
শ্রবণকারী- اَللهُ اَكْبَرْ আল্লাহু আকবার (২ বার)
মুয়াজ্জিন- لَا اِلَهَ اِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ১ বার
শ্রবণকারী- لَا اِلَهَ اِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ১ বার
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আজানের জবাবে অনুরূপ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(মুসলিম শরীফ)
সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজান ও ইক্বামাতে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়ার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
নামাজে আমরা যা বলি , তার অর্থ জানলে নামাজে অন্য চিন্তা মাথায় আসবেনা !!
নিয়ত করার পর, নামাজের মধ্যে আমরা কি পড়ি, বা বলছি...
১ ) নামাজে দাড়িয়েই প্রথমে আমরা বলি ”আল্লাহু আকবার’
অর্থ – আল্লাহ্ সবচেয়ে বড় !
২ ) তারপর পড়ি সানা । সানায় আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি নিজের জন্য দুয়া করি।
সানা :
”সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা
ওয়াতাবারাকাস্মুকা ওয়া তা’আলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা”
অর্থঃ হে আল্লাহ ! তুমি পাক-পবিত্র , তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তোমার নাম পবিত্র এবং বরকতময়, তোমার গৌরব অতি উচ্চ , তুমি ছাড়া অন্য কেহ উপাস্য নাই।
৩ ) তারপর আমরা শয়তানের প্রতারনা থেকে আশ্রয় চাই এবং বলি,
আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজিম।
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৪ ) আল্লাহর পবিত্র নাম দিয়ে আল্লাহর দয়া করুণার গুন দিয়ে নামাজ এগিয়ে নিয়ে যাই। এবং বলি,
’বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’
অর্থঃ পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।
৫ ) এরপর আমরা সূরা ফাতেহা দিয়ে নামাজ শুরু করি ( ২ রাকাত / ৪ রাকাত , ফরয / সুন্নতের নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়ি )
৬ ) আমরা রুকুতে আল্লাহ্ -র উদ্দেশ্যে শরীর অর্ধেক ঝুঁকিয়ে দিয়ে মাথা নুয়িয়ে দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করি এবং ক্ষমা চাই,
তিনবার বলি , সুবাহানা রাব্বি-আল আজিম / সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম ওয়া বিহামদিহি
অর্থ: আমার মহান রবের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি।
৭ ) তারপর রুকু থেকে উঠে আমরা বলি -
> সামি আল্লাহু লিমান হামিদা
অর্থ : আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা কবুল করেন, যে তার প্রশংসা করে ।
তারপর পরই আমরা আবার আল্লাহর প্রশংসা করে বলি -
>আল্লাহুম্মা ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’
অর্থ : হে আল্লাহ! যাবতীয় প্রশংসা কেবল তোমারই।
৮ ) তারপর আমরা সমস্ত শরীর নুয়িয়ে দিয়ে মাথাকে মাটিতে লুটিয়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট সিজদা দেই।
বি: দ্র: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করে, আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লেখেন ও তার একটি পাপ দূর করে দেন এবং তার মর্যাদার স্তর একটি বৃদ্ধি করে দেন।‘
তিনবার বলি ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’
অর্থ: আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
৯) দুই সিজদার মাঝখানে আমরা বলি,
”আল্লাহুম্মাগ ফিরলি,ওয়ার হামনী, ওয়াহদীনি, ওয়া আফিনী, ওয়ার-ঝুকনী”
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমায় মাফ কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে শান্তি দান কর এবং আমাকে রিজিক দাও ।
১০) এভাবে সালাত শেষে , মধ্য ( ২ রাকাত , ৪ রাকাত ভিত্তিতে ) বৈঠক আর শেষ বৈঠকে তাশাহুদে, আল্লাহর প্রশংসা করি । রাসুল (সাঃ) এর প্রতি দুরুদ পেশ করে নিজেদের জন্য দুয়া করি । দুআ মাসুরা পড়ি ।
তাশাহুদ :
‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়াতু, ওয়াত্ তাইয়িবাতু। আস্সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থঃ “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর
বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।”
দুরুদ :
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও
ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন
কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি
ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ,
ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন
কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা
ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।
অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন।
নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।”
দুআ মাসুরা :
আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি যুলমান কাছিরা,
ওয়ালা ইয়াগ ফিরূজ
যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন
ইনদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম |
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার উপর অত্যাধিক অন্যায় করেছি এবং তুমি ব্যতীত পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই । সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও । ক্ষমা একমাত্র তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে | আমার প্রতি রহম কর । নিশ্চই তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু ।
১১ ) ২ কাঁধে সালাম দিয়ে আমরা নামাজ শেষ করি ।
ব্যস্ততার কারনে হোক বা তাড়াহুড়োর কারনে হোক, বা যে কোন কারনেই হোক আমরা সব সময় নামাজে গভীর মনোযোগ দিতে ব্যার্থ হই।
কিন্তু সব সময় না পারি মাঝে মাঝে তো আমরা মনোযোগ দিতে পারি তা-ই না?
এই মনোযোগ বিষয়টা কাজ করবে, যখন আমরা বুঝব যে, নামাজে আমরা আসলে কি করছি।
যখন আমরা নামাজে ব্যবহৃত শব্দ বাক্যগুলোর অর্থ বুঝব বা অনুভব করব তখন মনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ঘটবে এবং আমাদের সাহায্য করবে নামাজ কে আরও বেশি সুন্দর ও খাটি করতে।
এর জন্য যে সম্পুর্ন অর্থ মুখস্ত করতে হবে তাও নয়।
যদি শুধুমাত্র জানা থাকে যে এই এই অর্থ তাহলেই তা কাজ করবে ইনশা আল্লাহ্।
তাই আসুন আজ থেকে সবাই ট্রাই করি ,
আল্লাহ্ হাফেজ ।

