আল কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা নিজের বলা কিছু কথা
আল কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা নিজের বলা কিছু কথা ১. হিদায়াত (হেদায়েত) – গাইডেন্স (هُدًى) কুরআন মানবজাতির জন্য সঠিক পথ প্রদর্শক। আয়াত: ذَٰلِكَ ٱلۡكِتَٰبُ لَا رَيۡبَۛ فِيهِۛ هُدٗى لِّلۡمُتَّقِينَ (সূরা আল-বাকারা ২:২) বাংলা অনুবাদ: "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ।" তাফসীর: ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে যে কুরআন সন্দেহমুক্ত এবং এটি শুধুমাত্র তাদের জন্য গাইডেন্স যারা আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর সন্তুষ্টি চায়। --- ২. শিফা – রোগের আরোগ্য (شِفَاءٌ) কুরআন আত্মিক ও মানসিক রোগের প্রতিকার। আয়াত: وَنُنَزِّلُ مِنَ ٱلۡقُرۡءَانِ مَا هُوَ شِفَآءٞ وَرَحۡمَةٞ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ (সূরা আল-ইসরা ১৭:৮২) বাংলা অনুবাদ: "আমি কুরআনে যা অবতীর্ণ করেছি তা হলো মুমিনদের জন্য রোগমুক্তি ও দয়া।" তাফসীর: ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, এই আয়াতে ‘শিফা’ বলতে আত্মার রোগ যেমন সন্দেহ, কুফর, শিরক, এবং দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি বোঝানো হয়েছে। --- ৩. রহমত – করুণা ও দয়া (رَحْمَة) কুরআন মুমিনদের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ রহমত। আয়াত: يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡكُم مَّوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَشِفَآءٞ لِّمَا فِي ٱلصُّدُورِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ (সূরা ইউনুস ১০:৫৭) বাংলা অনুবাদ: "হে মানুষ! তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ, যা তোমাদের অন্তরের রোগের প্রতিকার এবং মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও দয়া।" তাফসীর: কুরতুবি (রহ.) বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে কুরআন শুধুমাত্র আইন বা বিধান নয়, বরং এটি অন্তরের প্রশান্তির জন্য আল্লাহর রহমত। --- ৪. জিকর – স্মরণ ও উপদেশ (ذِكْرٌ) কুরআন মানুষকে আল্লাহর স্মরণ করিয়ে দেয়। আয়াত: إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ (সূরা আল-হিজর ১৫:৯) বাংলা অনুবাদ: "নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" তাফসীর: ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এখানে ‘জিকর’ বলতে কুরআন বোঝানো হয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য আল্লাহর বিধান ও উপদেশ হিসেবে থাকবে। --- ৫. নূর – আলোকবর্তিকা (نُورٌ) কুরআন অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসে। আয়াত: يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدۡ جَآءَكُم بُرۡهَٰنٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكُمۡ نُورٗا مُّبِينٗا (সূরা আন-নিসা ৪:১৭৪) বাংলা অনুবাদ: "হে মানুষ! তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলিল এবং আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আলোর উৎস।" তাফসীর: তাফসীর ইবনে কাসির অনুসারে, এই আয়াতে নূর বলতে কুরআন বোঝানো হয়েছে, যা মানুষকে জাহান্নামের অন্ধকার থেকে জান্নাতের আলোতে নিয়ে যায়। --- ৬. ফুরকান – সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (فُرْقَانٌ) কুরআন সত্য-মিথ্যার সুস্পষ্ট ফয়সালা। আয়াত: تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا (সূরা আল-ফুরকান ২৫:১) বাংলা অনুবাদ: "অনন্ত কল্যাণময় সেই সত্তা, যিনি তার বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হন।" তাফসীর: কুরতুবি (রহ.) বলেন, এখানে ‘ফুরকান’ শব্দের অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব, যা দ্বীন ও দুনিয়ার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গাইডেন্স প্রদান করে। --- উপসংহার কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক মহাসংগ্রহ, যা মানুষের পথপ্রদর্শক, অন্তরের প্রশান্তি, আলোর দিশারী, রহমত, সতর্কবার্তা ও সুস্পষ্ট ফয়সালা। এটি মানবজাতির কল্যাণের জন্য প্রেরিত চূড়ান্ত বিধান যা কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে।
বনী ইসরাইল কিভাবে এবং কেন ফেরাউন-এর দাসত্বে পতিত হলো এবং আমাদের জন্য কি শিক্ষা রয়েছে কুরআন, তাওরাত ও ইনজিল থেকে
বনী ইসরাইল কিভাবে এবং কেন ফেরাউন-এর দাসত্বে পতিত হলো এবং আমাদের জন্য কি শিক্ষা রয়েছে কুরআন, তাওরাত ও ইনজিল থেকে বনী ইসরাইলের দাসত্বের ঘটনা হযরত ইউসুফ (عليه السلام) এর পরে সঙ্গে সঙ্গে ঘটেনি; বরং এটি ধাপে ধাপে ঘটেছে, কারণ তারা ধীরে ধীরে ন্যায়পথ থেকে সরে গিয়েছিল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কোনো ন্যায়পরায়ণ জাতির ওপর অত্যাচারী শাসক চাপিয়ে দেন না। কিন্তু যখন একটি জাতি সঠিক পথ ত্যাগ করে, তখন তারা শাস্তির সম্মুখীন হয় এবং জুলুমের শিকার হয়। তাওরাত, ইনজিল এবং কুরআনের শিক্ষা আমাদের এই সত্যটি বুঝতে সাহায্য করে। ১. তাওরাতে (Torah – পুরাতন নিয়ম বা ওল্ড টেস্টামেন্ট) বনী ইসরাইলের অবনতি তাওরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত ইউসুফ (عليه السلام) এর মৃত্যুর পর বনী ইসরাইল ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয়: তারা মিশরীয়দের সাথে মিশে গিয়ে তাদের মূর্তিপূজার কিছু রীতি গ্রহণ করে। তাদের অনেকেই পার্থিব সম্পদপ্রেমী হয়ে ওঠে এবং তাওহীদের প্রতি অবহেলা দেখায়। তারা হযরত ইবরাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুব (عليهم السلام) এর প্রদত্ত আল্লাহর বিধানগুলো মানা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আল্লাহ তাদের ওপর এক অত্যাচারী ফেরাউনকে চাপিয়ে দেন, যে তাদের দাস বানিয়ে নেয়। তাওরাতের Exodus 1:8-14-এ উল্লেখ আছে: "তখন মিশরে এক নতুন রাজা আসলো, যে ইউসুফ সম্পর্কে কিছুই জানতো না। সে তার লোকদের বললো, 'দেখো, বনী ইসরাইলের সংখ্যা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এবং তারা শক্তিশালী... তাই আমরা তাদের উপর কঠোর শ্রমের বোঝা চাপিয়ে দিলাম।'" এটি প্রমাণ করে যে, যখন বনী ইসরাইল তাদের আধ্যাত্মিক শক্তি ও নৈতিক শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলেছিল, তখন তারা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফেরাউন তাদেরকে সহজেই দাস বানিয়ে নেয়। --- ২. ইনজিলে (Gospel) বনী ইসরাইলের অবনতি ও তাদের শিক্ষা হযরত ঈসা (عليه السلام) অনেক পরে আগমন করলেও তিনি বারবার বনী ইসরাইলকে সতর্ক করেছিলেন যে, তাদের পূর্বপুরুষদের নাফরমানির কারণেই তারা আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল। গসপেল অব ম্যাথিউ (Matthew 23:37)-এ হযরত ঈসা (عليه السلام) বলেন: "হে জেরুজালেম, জেরুজালেম! তুমি নবীদের হত্যা করো এবং যারা তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করো। আমি কতবার তোমার সন্তানদের একত্র করতে চেয়েছি, যেমন একটি মুরগি তার বাচ্চাদের ডানার নিচে নিতে চায়, কিন্তু তুমি রাজি হওনি!" এটি প্রমাণ করে যে, বনী ইসরাইল বহু নবীকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং দুনিয়াবাদী হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তারা একের পর এক অত্যাচারী শাসকদের অধীনে পতিত হয়—ফেরাউন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের শাসন পর্যন্ত। --- ৩. কুরআনে বনী ইসরাইলের অবনতি ও শাস্তির কারণ কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বনী ইসরাইল একসময় আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত ছিল, কিন্তু তারা ধীরে ধীরে নাফরমান হয়ে পড়েছিল, যার ফলে তারা ফেরাউনের দাসত্বে পতিত হয়। (A) বনী ইসরাইল আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত ছিল, কিন্তু তারা অকৃতজ্ঞ হয় اللَّهَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ "হে বনী ইসরাইল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি, এবং আমি তোমাদেরকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।" (সূরা আল-বাকারা ২:৪৭) তারা যখন আল্লাহর আনুগত্য করতো, তখন তারা সম্মানিত ও নিরাপদ ছিল। কিন্তু তারা ক্রমশ দুনিয়াবাদী হয়ে পড়লে এবং আল্লাহর বিধান অমান্য করলে, তারা তাদের সম্মান হারিয়ে ফেলে। (B) তারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল এবং শাস্তি পেয়েছিল وَإِذْ قُلْنَا لَكُمُ ٱدْخُلُوا ٱلْقَرْيَةَ فَكُلُوا۟ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًۭا وَٱدْخُلُوا ٱلْبَابَ سُجَّدًۭا وَقُولُوا۟ حِطَّةٌۭ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَـٰيَـٰكُمْ وَسَنَزِيدُ ٱلْمُحْسِنِينَ ٥٨ فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ قَوْلًۭا غَيْرَ ٱلَّذِى قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ رِجْزًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ "যখন আমি তোমাদের বললাম, ‘এই শহরে প্রবেশ করো এবং সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও প্রশস্তভাবে, কিন্তু দরজায় সিজদা করে প্রবেশ করো এবং বলো, "আমাদের পাপ মোচন করো"—আমি তোমাদের পাপ ক্ষমা করবো এবং নেককারদের পুরস্কার বাড়িয়ে দেবো। কিন্তু জালিমরা আদেশ পরিবর্তন করলো, যা তাদের বলা হয়নি, তাই আমি তাদের ওপর আসমান থেকে শাস্তি নাজিল করলাম, কারণ তারা ফাসেক ছিল।" (সূরা আল-বাকারা ২:৫৮-৫৯) এটি প্রমাণ করে যে, তারা আল্লাহর আদেশ পরিবর্তন করেছিল এবং অবাধ্য হয়েছিল, যার ফলে তারা শাস্তি পেয়েছিল। (C) আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ জাতির ওপর অত্যাচারী শাসক চাপিয়ে দেন না ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًۭا نِّعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَىٰ قَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا۟ مَا بِأَنفُسِهِمْ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ "এটি এই কারণে যে, আল্লাহ কোনো জাতির ওপর দেওয়া নেয়ামত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তন করে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।" (সূরা আল-আনফাল ৮:৫৩) এটি প্রমাণ করে যে, বনী ইসরাইল নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল। --- সংক্ষেপে – কেন বনী ইসরাইল ফেরাউনের দাসত্বে পতিত হলো? ১. হযরত ইউসুফ (عليه السلام) এর সময়ে তারা সম্মানিত ছিল: মিশরে তারা সুখে ছিল এবং সম্মান পেয়েছিল। ২. ধীরে ধীরে অবনতি শুরু হলো: তারা তাওহীদের পথে স্থির থাকতে পারেনি। তারা দুনিয়াবাদী হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর বিধান ভুলে যায়। ৩. আল্লাহ তাদের শাস্তি দিলেন: ফেরাউন তাদের ওপর জুলুম করতে শুরু করলো। তারা ধীরে ধীরে দাসে পরিণত হলো। ৪. আল্লাহ তাদের দয়া করলেন: তিনি হযরত মূসা (عليه السلام) কে পাঠালেন তাদের মুক্তির জন্য। --- আমাদের জন্য শিক্ষা যখন কোনো জাতি আল্লাহর পথ অনুসরণ করে, তখন তারা সম্মানিত হয়। যখন তারা আল্লাহর পথ থেকে সরে যায়, তখন তারা দুর্বল হয় ও নিপীড়িত হয়। আজকের মুসলিম উম্মাহও যদি কুরআন ও হাদিস থেকে দূরে চলে যায়, তাহলে তাদের ওপরও অত্যাচারী শাসক চাপিয়ে দেওয়া হবে। এটি একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা—যে জাতি আল্লাহর আনুগত্য করে না, তারা অপমানিত হয়।
Basic Computer Skills
বেসিক কম্পিউটার শিখুন বেসিক কম্পিউটার শিখুন নিজেকে যোগ্য করে তুলুন বর্তমানে সকল প্রকার কর্ম ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব অপরিসীম। বেসিক কম্পিউটারের শিক্ষা না থাকলে আপনি কোথাও চাকরি পানে না। তাই বেসিক কম্পিউটার শিখুন নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক সহ বিভিন্ন পরীক্ষা পাশ করার পর ছাত্রছাত্রীরা সঠিক কম্পিউটার কোর্স নির্বাচন করতে পারে না। অনেক সময় তারা এমন সব কম্পিউটার কোর্স করে যেগুলি করার পর চাকরির সুযোগ তেমন থাকে না।
The Secrets Behind India's Billion-Dollar Startups and Behind the Valuation: How User Base and Growth Strategies of India's 24 startup made them “Unicorn”
The Secrets Behind India's Billion-Dollar Startups and Behind the Valuation: How User Base and Growth Strategies of India's 24 startup made them “Unicorn” 1. BYJU'S * Proprietary content and technology 2. Paytm * Network effect and brand recognition 3. Ola * Scale and network effect 4. Zomato * Network effect and brand recognition 5. Flipkart * Scale and network effect and many more


.jpeg)

